দৃষ্টির সংযম কী এবং তা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ

মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। (৩০)

ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গকে হেফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভূক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে।

মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (৩১)

সূরা নূর এর ৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুমিনদের প্রতি অর্থাৎ ঈমানদার পুরুষদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। এবং ৩১ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ঈমানদার নারীদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। পুরুষদের প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নির্দেশ সংবলিত আয়াতটির (৩০ নম্বর) তাফসীরের চুম্বক অংশ নিচে উল্লেখিত হলো।
তাফসীরে মাআরেফুল ক্কুরআন থেকে তাফসীরটুকু গৃহীত।

* * * * সূরা আন-নূরের ৩০ নম্বর আয়াতের তাফসীর * * * *

দৃষ্টি নত রাখার অর্থ দৃষ্টিকে এমন বস্তু থেকে ফিরিয়ে নেয়া যার প্রতি দেখা শরীয়তে নিষিদ্ধ ও অবৈধ। ইবনে কাসীর এবং ইবনে হাইয়্যান এ তফসীরই করেছেন। বেগানা নারীর প্রতি বদ নিয়তে দেখা হারাম এবং বিনা নিয়তে দেখা মাকরুহ — এ বিধানটি এর অন্তর্ভূক্ত। কোন নারী অথবা পুরুষের গোপনীয় অঙ্গের প্রতি দেখাও এর মধ্যে দাখিল (চিকিৎসা ইত্যাদির কারণে প্রয়োজনীয় অঙ্গ এ থেকে ব্যতিক্রমভূক্ত)। এছাড়া কারো গোপন তথ্য জানার জন্য তার গৃহে উঁকি মেরে দেখা এবং যেসব কাজে দৃষ্টি ব্যবহার করা শরীয়ত নিষিদ্ধ করেছে, সেগুলো এর অন্তর্ভুক্ত।

যৌনাঙ্গ সংযত রাখার অর্থ এই যে, কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার যত পন্থা আছে, সবগুলো থেকে যৌনাঙ্গকে সংযত রাখা।

এই আয়াতের উদ্দেশ্য অবৈধ ও হারাম পন্থায় কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা এবং তার সমস্ত ভূমিকাকে নিষিদ্ধ করা। তন্মধ্যে কাম প্রবৃত্তির প্রথম ও প্রারম্ভিক কারণ হচ্ছে — দৃষ্টিপাত করা ও দেখা এবং সর্বশেষ পরিণতি হচ্ছে ব্যভিচার। এ দু’টিকে স্পষ্টতঃ উল্লেখ করে হারাম করে দেয়া হয়েছে। এতদুভয়ের অন্তর্বর্তী ভূমিকাসমূহ — যেমন কথাবার্তা শোনা, স্পর্শ করা ইত্যাদি প্রসঙ্গক্রমে এগুলোর অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেছে।

তাবরানী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন —

দৃষ্টিপাত শয়তানের একটি শর। যে ব্যক্তি মনের চাহিদা সত্ত্বেও দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়, আমি তার পরিবর্তে তাকে সুদৃঢ় ঈমান দান করবো, যার মিষ্টতা সে অন্তরে অনুভব করবে।

সহীহ মুসলিমে হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উক্তি বর্ণিত আছে যে, ইচ্ছা ছাড়াই হঠাৎ কোন বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি পতিত হলে সেদিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও। — (ইবনে কাসীর)

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীসে আছে, প্রথম দৃষ্টি মাফ, এবং দ্বিতীয় দৃষ্টি গোনাহ। এর উদ্দেশ্যও হচ্ছে, প্রথম দৃষ্টিপাত অকস্মাৎ ও অনিচ্ছাকৃত হওয়ার কারণে ক্ষমার্হ। নতুবা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রথম দৃষ্টিপাতও ক্ষমার যোগ্য নয়।

যদি কেউ এই সম্পর্কিত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নির্দেশ ও আদেশসমূহ বিস্তারিত জানতে চাই, তাহলে সূরা নূর এর তাফসীর পাঠ করলে উপকৃত হবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদেরকে তার আদেশ মেনে চলার তৌফিক দান করুন।

Advertisements

মন্তব্য দিন

Filed under চারিত্রিক উন্নয়ন, সূরা নূর

আপনার মন্তব্য রেখে যেতে পারেন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s